সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
লালমনিরহাট প্রতিনিধি॥
লালমনিরহাটে দুর্ধষ পেটকাটা বাহিনীর জুলুম এবং দৌরাত্ম যেন থামছেই না। সম্প্রতি লালমনিরহাটের এক অসহায় দিনমজুর পরিবারের বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, জমি দখল করে দেয়াল ঘর নির্মান ও লুটপাটের অভিযোগে সদর থানায় ৯ জনের নামে মামলা দায়ের হলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। ফলে এলাকায় দিন দিন পেটকাটা বাহিনীর অন্যায় অত্যাচার কোন ভাবে থামছেই না।
মামলার বিবরনে জানা যায়, লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্ডা ইউনিয়নের বেড়পাঙ্গা গ্রামের সহজ সরল দিনমজুর সমশের আলী (৫৫) তার স্ত্রী সহিতন বেগমের ছোট সংসার ভালই চলছিল। তাদের দুই দাগের ১৯ শতক জমি দীঘদিন ধরে বসতভিটাসহ চাষাবাদের পাশাপাশি অন্যের বাড়িতে দিনমজুরের কাজ করে সংসার চালান। কিন্তু নীরহ পরিবারটিকে ভিটাছাড়া করতে প্রভাবশালী পেটকাটা বাহিনী জাল জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে দিনমজুর সমশের আলীর বসতভিটার ৩শতক জমি দখল করার চেষ্টা চালায়। এনিয়ে এলাকায় কয়েক দফা শালিস বৈঠক হলেও সঠিক দলিলপত্র দেখাতে পারেনি পেটকাটা বাহিনী। একপর্যায় ৫মার্চ সন্ধ্যায় প্রভাবশালী পেটকাটা বাহিনী বিভিন্ন অস্ত্রে স্বস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ওই দিনমজুরের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দিনমজুর সমশের আলী ও তার স্ত্রী সহিতন বেগমকে এলোপাতাড়ী ভাবে মারপিট করে। হামলার এক পর্যায়ে হামলাকারীরা তাদের ঘরের নগত টাকাসহ স্বর্নালংকার লুট করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় দিনমজুর সমশের আলী পেটকাটা বাহিনীর বিরুদ্ধে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে প্রভাবশালী পেটকাটা বাহিনী ক্ষিপ্ত হয়ে ৬মার্চ সন্ধ্যায় দিনমজুর সমশের আলীর বসতবাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। পরে সমশের আলী অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বাদী হয়ে প্রভাবশালী পেটকাটা বাহিনীর বিরুদ্ধে লালমনিরহাট সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।
অভিযুক্তরা হল একই গ্রামের মৃত আবুর উদ্দিনের পুত্র আঃ সামাদ ওরফে পেটকাটা (৬০), মৃত শহিরত আলীর পুত্র সাহেদুল হক (৪২), আঃ সামাদ ওরফে পেটকাটা পুত্র রায়হান বাবু (২৬) ও সুজন মিয়া (২০), মৃত আবুর উদ্দিনের পুত্র সামছুল ইসলাম ওরফে কোপা সামছু (৪৮), সামছুল ইসলাম ওরফে কোপা সামছুর পুত্র সিদ্দিক আলী (৩০), মৃত মহির উদ্দিনের পুত্র রফিকুল ইসলাম (৫০), মৃত আবুর উদ্দিনের পুত্র শফিকুল ইসলাম (৫০)। যার মামলা নং ৩৩, তাং ১৩/০৩/১৮ইং।
এ মামলায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। পরবর্তীতে অভিযুক্ত প্রভাবশালী বাহিনীর আসামীরা আদালত থেকে জামিন নিয়ে বেড়িয়ে এসে বাদীকে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। মামলা তুলে নিতে সমশের আলী রাজি না হলে ২৬মার্চ রাতে প্রভাবশালী পেটকাটা বাহিনী আবারওবিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে ওই দিনমজুরের বাড়িতে আবারও প্রবেশ করে সমশের আলীকে মৃত্যুর ভয় দেখায় এবং আদালতে তাদের খরচের টাকা দাবী করে ষ্ঠ্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া চেষ্ঠা করেন।
এতে ব্যর্থ হয়ে ২৭মার্চ সকালে সমশের আলীর জমিতে পেটকাটা বাহিনীর সন্ত্রাসীরা গায়ের জোড়ে চাষ করতে যায়। পরে সমশের আলী তাদের বাঁধা দিতে গেলে তাকে একাপেয়ে আবারও তার ওপর হামলা চালিয়ে মারপিট করে গুরুতর আহত করেন। এক সময় তাকে হত্যার উদ্দেশ্য ছোড়া দিয়ে শরিরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে তার বাম হাত কেটে ফেলে। সমশের আলী রক্তাক্ত অবস্থা মাটিতে পড়ে থাকলে তার স্ত্রী সহিতন বেগম এলাকাবাসীর সহযোগীতায় তাকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। এ ঘটনায় দিনমজুর সমশের আলী বাদী হয়ে একই গ্রামের মৃত আবুর উদ্দিনের পুত্র আঃ সামাদ ওরফে পেটকাটা (৬০) ও সামছুল ইসলাম ওরুপে কোপা সামছু (৪৮), আঃ সামাদ ওরুপে পেটকাটার পুত্র রায়হান বাবু (২৬) ও সুজন মিয়া (২০), আঃ সামাদ ওরফে পেটকাটার স্ত্রী আম্বিয়া (৫০), মৃত আবুর উদ্দিনের পুত্র শফিকুল ইসলাম (৫০), আবদার মুন্সির পুত্র আশরাফুল (৪০) আসামী করে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ দায়েরের ৪দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ রহস্যজনক কারণে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়নি বাকোন আসামীকেগ্রেফতার করতে পারে নি। ফলে ওই এলাকায় পেটকাটা বাহিনীর অত্যাচার,দৌরাত্ম কোন ভাবেই থামছে না বরংবেড়েই চলেছে।
হাসপাতালে বেডে অশ্রুসিক্ত নয়নে দিনমজুর সমশের আলী বলেন, ওরা (পেটকাটা বাহিনী) আমাকে বাঁচতে দিবে না। পেটকাটা বাহিনীর ভয়ে হামরা (আমরা) এ্যালা (এখন) ভিটামাটি ছাড়া। ওরা জমি দখল করে ঘর তুলেছে, বাড়িতে আগুন লাগিয়েছে, মামলা দায়েরের পর থেকি (থেকে) মামলা তুলে নিবার(নেয়ার) জন্য আসামীরা মারিফেলবার (মেরেফেলার) হুমকি দিচ্ছেন। আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছি, তাই আইনের মাধ্যমে প্রভাবশালী পেটকাটা গংটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া দাবী জানান।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা লালমনিরহাট সদর থানার উপ-পরির্দশক (এসআই) মাহমুদুল হাসান বলেন, অগ্নিসংযোগ মামলায় ৯ জন আসামীর মধ্যে ৬ জন জামিনে আছে। অন্য ৩ জনকে গ্রেফতারের চেষ্ঠা চলছে।
এ ব্যাপারে লালমনিরহাট সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ পেয়েছি, অভিযুক্তদের গ্রেফতারে চেষ্টা অব্যাহত আছে।